Ads Manager বলছে ROAS 5x। কিন্তু মাস শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখছেন লাভ সেই অনুপাতে আসেনি। ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) ব্যবসায় এটা খুব সাধারণ ঘটনা, আর এর কারণ বেশিরভাগ সময় অ্যাডে না, হিসাবের পদ্ধতিতে।
Ads Manager-এর ROAS কেন বেশি দেখায়
Meta বা Google যখন ROAS দেখায়, তখন সে প্রতিটা অর্ডার প্লেস হওয়াকেই বিক্রি ধরে নেয়। কিন্তু COD-তে অর্ডার প্লেস হওয়া আর টাকা হাতে আসা এক জিনিস না। মাঝখানে তিনটা জায়গায় টাকা হারায়:
- ফেরত আসা পার্সেল: কাস্টমার ফোন ধরেন না, মত বদলান, বা দরজায় গিয়ে পণ্য নিতে রাজি হন না। এই অর্ডারগুলো Ads Manager-এ বিক্রি হিসেবে থেকে যায়, কিন্তু আপনার কোনো আয় হয়নি।
- রিটার্ন কুরিয়ার চার্জ: প্রতিটা ফেরত পার্সেলের জন্য কুরিয়ার আলাদা চার্জ নেয়, সাথে প্যাকেজিং নষ্ট হয়। এটা অ্যাডের খরচের মতোই বাস্তব খরচ।
- ভুল সিগন্যাল: Pixel যদি অর্ডার প্লেস হলেই Purchase পাঠায়, তাহলে অ্যালগরিদম এমন মানুষ খোঁজা শেখে যারা অর্ডার দেয়, যারা আসলে পণ্য নেয় তাদের না।
আসল ROAS-এর সূত্র
আসল ROAS মাপতে হবে শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের আয় দিয়ে, আর খরচের মধ্যে রিটার্নের খরচও যোগ করতে হবে:
এখানে ডেলিভারি হওয়া আয় = মোট অর্ডার × ডেলিভারি সাকসেস রেট × গড় অর্ডার মূল্য, আর ফেরত পার্সেলের খরচ = ফেরত আসা অর্ডার × প্রতিটা ফেরতের খরচ।
একটা উদাহরণ দিয়ে দেখি
ধরুন এক মাসে আপনার ক্যাম্পেইনের হিসাব এরকম:
- অর্ডার প্লেস হয়েছে: 200টা
- গড় অর্ডার মূল্য: ৳1,500
- অ্যাড খরচ: ৳60,000
- প্রতিটা ফেরত পার্সেলের খরচ: ৳120
Ads Manager দেখাবে 200 × ৳1,500 = ৳3,00,000 আয়, অর্থাৎ ROAS 5x। এবার ডেলিভারি সাকসেস রেট 80% হলে দেখি:
- ডেলিভারি হয়েছে 160টা, আয় ৳2,40,000
- ফেরত এসেছে 40টা, খরচ 40 × ৳120 = ৳4,800
- মোট খরচ ৳60,000 + ৳4,800 = ৳64,800
- আসল ROAS = ৳2,40,000 ÷ ৳64,800 = 3.70x
অর্থাৎ ড্যাশবোর্ডের 5x আসলে 3.70x, প্রায় 26% কম। ডেলিভারি রেট কমলে এই ফারাক কত দ্রুত বাড়ে, দেখুন:
| ডেলিভারি রেট | Ads Manager ROAS | আসল ROAS | প্রতি ডেলিভারি অর্ডারের খরচ |
|---|---|---|---|
| 90% | 5.00x | 4.33x | ৳347 |
| 80% | 5.00x | 3.70x | ৳405 |
| 70% | 5.00x | 3.13x | ৳480 |
| 60% | 5.00x | 2.59x | ৳580 |
ড্যাশবোর্ডে চারটা ক্ষেত্রেই একই 5x দেখাচ্ছে, অথচ 90% আর 60% ডেলিভারি রেটের ব্যবসার আসল ROAS প্রায় দ্বিগুণ আলাদা।
লাভ হচ্ছে কিনা বুঝবেন কীভাবে
আসল ROAS বের করার পর সেটা আপনার break-even ROAS-এর সাথে মেলান। break-even ROAS হলো সেই সর্বনিম্ন ROAS, যার নিচে গেলে প্রতিটা বিক্রিতে লস হয়। ধরুন ৳1,500 দামের পণ্যে প্রোডাক্ট কস্ট, ডেলিভারি, প্যাকেজিং আর COD চার্জ মিলিয়ে খরচ ৳835। তাহলে অ্যাডের আগে হাতে থাকে ৳665, আর break-even ROAS = 1,500 ÷ 665 ≈ 2.26x।
উপরের টেবিলের সাথে মেলালে দেখা যায়, 60% ডেলিভারি রেটে আসল ROAS 2.59x, break-even-এর খুব কাছে। ড্যাশবোর্ডের 5x দেখে বাজেট বাড়ালে এখানে লাভের বদলে লস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ডেলিভারি রেট বাড়ানোর ৬টা কাজের উপায়
- শিপ করার আগে ফোনে কনফার্ম করুন। ফেক বা ভুল অর্ডার আগেই বাদ পড়ে, আর কাস্টমার মনে রাখেন যে পণ্য আসছে।
- দামি পণ্যে বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ডেলিভারি চার্জ আগে নিন। অল্প অগ্রিম টাকাও অর্ডার বাতিলের হার অনেক কমায়।
- অ্যাডে আর পেজে পণ্য যেমন, ঠিক তেমন দেখান। আসল ছবি, সঠিক সাইজ আর দাম স্পষ্ট লিখুন। হাতে পেয়ে অবাক হওয়া কাস্টমারই সবচেয়ে বেশি পণ্য ফেরত দেন।
- ডেলিভারি দ্রুত করুন। অর্ডার আর ডেলিভারির মাঝে যত বেশি দিন যায়, মত বদলানোর সুযোগ তত বাড়ে।
- বারবার অর্ডার ফেরত দেওয়া নম্বরগুলো চিহ্নিত করে রাখুন। কুরিয়ারের হিস্টরি দেখে এদের জন্য অগ্রিম পেমেন্ট চালু করুন।
- Meta-কে ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের সিগন্যাল পাঠান। Conversions API দিয়ে ডেলিভারি কনফার্ম হলে Purchase ইভেন্ট পাঠালে অ্যালগরিদম আসল ক্রেতা খুঁজতে শেখে, শুধু অর্ডার দেওয়া মানুষ না।
নিজের সংখ্যা দিয়ে এখনই হিসাব করুন
অর্ডার, গড় অর্ডার মূল্য, অ্যাড খরচ আর ডেলিভারি রেট দিলেই আপনার আসল ROAS দেখাবে। ফ্রি, আর কোনো তথ্য কোথাও সেভ হয় না।
সংক্ষেপে
- COD ব্যবসায় Ads Manager-এর ROAS প্রায় সবসময় আসলের চেয়ে বেশি দেখায়।
- সিদ্ধান্ত নিন শুধু ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের হিসাব দিয়ে, আর খরচে রিটার্ন চার্জ যোগ করুন।
- আসল ROAS-কে break-even ROAS-এর সাথে মিলিয়ে দেখুন, তারপর বাজেট বাড়ান।
- ডেলিভারি রেট কয়েক শতাংশ বাড়ানোও অনেক সময় নতুন অ্যাড চালানোর চেয়ে বেশি লাভ এনে দেয়।